When the lionization of Sheikh Mujibur Rahman is the first priority of this government, one would expect that the stock of Kader Siddiqui, one of the few men who took up arms after the 1975 massacre, would be very high. Unfortunately, Siddiqui broke with Sheikh Hasins during the last Awami Lwague government. On 1 March, 2011, our Anti-Corruption Commission filed a case against him for amassing illegal wealth. About three weeks afterwards, Kader Siddiqui responded by saying that Ziaur Rahman was indeed the person who declared Bangladesh’s independence, while Sheikh Majib was the Father of the Nation and the indisputed leader of the Liberation War. As expected, this caused a lot of consternation in pro-government circles. On the eve of our Independence Day, he responded to his critics. Some excerpts are given below; the full article is here.

On Khandakar Delwar Hossain and the Change in Our Political Climate:
দুইদিন আগেও যারা তার কত নাহক সমালোচনা করেছেন, কত অপমান অপদস্ত করেছেন তারাই যখন তার মরদেহে ফুলমালা দিলেন, শতকণ্ঠে প্রশংসা করলেন, তখন আমার অন্তর আত্মা কেঁপে কেঁপে উঠছিল। ভাবছিলাম নেতৃবৃন্দের কোন কথা সত্য? ফুলমালা দেওয়ার পর শতমুখে প্রশংসা, না মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে হাজার কণ্ঠে নিন্দা-অযৌক্তিক সমালোচনা? তবে আমার খুবই ভালো লেগেছে মরদেহের পাশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভ্য ভাষণ। তার বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে খোন্দকার দেলোয়ার রাজনীতি করেছেন। তারপরও কেন যেন দুঃখ হয়, তার জীবিতকালে চিফ হুইপ থাকতে সংসদের টাকা নিয়ে বাড়িতে বাজার করেছেন, চিকিৎসার জন্য তহবিল তছরুপ করেছেন। এসব অভিযোগ না আনলে কি হতো না? কেন জানি না আমরা রাজনীতিবিদরাই রাজনীতিবিদদের প্রধান শত্রু। তাদের বড় বেশি অপমান-অপদস্ত করি। এক আমলা আরেক আমলাকে রক্ষা করতে কত চেষ্টাই না করে। কিন্তু এক রাজনীতিবিদ আরেক রাজনীতিবিদকে সব সময় খতম করতে চায়। অনেক মিথ্যা অভিযোগে বিরোধী রাজনীতিকদের জেলে পাঠিয়ে কি হেনস্থাই না করা হয়। অথচ স্বাধীনতার পর খান এ সবুর খান যখন বঙ্গবন্ধুকে চিঠি দিয়েছিলেন ‘ভাই মজিবর, তুমি দেশ স্বাধীন করেছ, আজ তুমি প্রধানমন্ত্রী। আমরা না হয় ভুলই করেছি। তাই বুড়ো বয়সে জেলে থাকবো?’ চিঠি পাওয়ার তিন-চার দিনের মধ্যে খান এ সবুর খানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়েছিলেন। শাহ আজিজুর রহমান, তিনি যখন জেলে ওবায়দুর রহমান ও আমাকে দিয়ে শাহ আজিজের বাড়ির ভাড়া পাঠাতেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী যখন জেলে ছিলেন তখন তার বাড়ি থেকে খাবার পাঠাতে কোনো দিন কোনো বাধা হয়নি। আলাউদ্দিন মতিন, হক-তোয়াহা সাহেবরা যখন পালিয়ে থাকতেন তাদেরও গোপনে টাকা পাঠাতেন। ধীরে ধীরে আজ কোথায় গেল সেসব রাজনৈতিক সহমর্মিতা। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এত প্রশংসা যারা করলেন, তারা তার জীবিতকালে অমন সীমাহীন জঘন্য সমালোচনা না করলেই কি পারতেন না? আজ যারা গলা ফাটিয়ে কথা বলেন তারা কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের জরুরি অবস্থার সময় ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে ছিলেন। সেদিন এই খোন্দকার দেলোয়ারই একজন নির্ভীক রাজনীতিবিদের মতো সিংহের তেজে মাঠে ময়দানে ছিলেন। তার নিজের দল বিএনপিতেও তিনি কম অপমানিত-লাঞ্ছিত হননি।

On Sheikh Mujibur Rahman and Ziaur Rahman:
আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মানে স্বাধীনতা। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক নন, স্বাধীনতার জনক। এখানে দোষের কি হলো? সেদিন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে অনেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানও দিয়েছেন। সামরিক ব্যক্তি ছিলেন বলে জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে স্বাধীনতার আহ্বান মানুষকে অনেক বেশি উজ্জীবিত করেছে। এটাই সত্য। আমি তো জিয়াউর রহমানকে চিনতামও না, তার ঘোষণায় যুদ্ধেও যাইনি। অনেক আগে থেকেই যুদ্ধ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলাম। কিন্তু সেদিন জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় কমবেশি আমিও উজ্জীবিত হয়েছিলাম। শুধু আমি কেন, আমাদের অনেক বড় নেতাও সে সময় খুশি হয়েছিলেন। তানাহলে কলকাতার বালিগঞ্জের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কেন জিয়াউর রহমানের ঘোষণা পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় নিয়মিতভাবে প্রচার করা হতো। এমআর আখতার মুকুলের কণ্ঠে চরমপত্রে কাদেরিয়া বাহিনীর গাবুর মাইর আর জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে ‘I Major Zia do hear by declare independence of Bangladesh on behalf of our great national leader Bangobandhu Sheikh Mujibur Rahman প্রতিদিন কেন বাজানো হতো। জিয়াউর রহমানের সেই ঘোষণা ‘our great national leader’ না বলে শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা বঙ্গবন্ধু বললে কিংবা শেখ মুজিবুর রহমান বললে কোনো ক্ষতি হতো না। অশুদ্ধ হতো না। কিন্তু সেদিন বঙ্গবন্ধুর উচ্চতা কতখানি ছিল তার সেদিনের সেই হাইট বুঝা যায় জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে Our great national leader বলায়। এখানে গ্রেট না বলে শুধু ন্যাশনাল বললে বাক্যের কোনো ক্ষতি হতো না। কিন্তু সত্যিকার অর্থে সে সময় বঙ্গবন্ধু যা ছিলেন জিয়াউর রহমান তাই বলেছেন। কোনো কমবেশি করেননি। করার উপায়ও ছিল না। যারা এখনো স্বাধীনতাকে স্বীকার করতে চান না তাদের কাউকেও যদি ওই সময় বেতার কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হতো তাহলে তিনিও জিয়াউর রহমানের মতো একই কথা বলতেন। একসময় নবাব সিরাজ উদদৌলা তার ভাঁড় গোলাম হোসেনকে বলেছিলেন, ‘তুমি মনে করো নবাবের বান্দা যা বুঝে আমি নবাব হয়ে তাও বুঝি না? কিন্তু কি করবো গোলাম হোসেন? কোনো উপায় নেই, উপায় নেই গোলাম হোসেন।’ সত্যিকার অর্থে আজ যে যাই বলুক, ‘৭১-এ বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া আমাদের কারোরই কিছু বলার বা করার উপায় ছিল না।জিয়াউর রহমানের ঘোষণা কেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রচার করা হতো? জিয়াউর রহমানের তো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের উপর কোনো প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বেতার কেন্দ্রটি ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে। আর সেটা পরিচালনা করতেন আমাদের টাঙ্গাইলের জননেতা আব্দুল মান্নান এমএনএ। স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে আমি তো এত মাতামাতির কোনো কারণ দেখি না। জিয়াউর রহমানের ঘোষণার রেকর্ড সবতো আর মুছে ফেলা যায়নি, এখনো তা রয়েছে। বাজিয়ে শুনুন না। তাতেই প্রমাণ হয়ে যাবে। আমি তাকে ঘোষক বললেই জিয়াউর রহমান ঘোষক হবেন, আমি না বললে হবেন না_ তা কি করে হয়? দেশের জনকের পক্ষে বা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে একটা ঘোষণা যে উচ্চারিত হয়েছিল যা বারবার প্রচার হয়েছে তা কালের সাক্ষী হয়ে আমিও শুনেছি। সেটা চোখ কান বন্ধ করে অস্বীকার করি কি করে? আজ কোনো স্বার্থের কারণে অস্বীকার করলে পরম প্রভু দয়ালু আল্লাহ তো আমাকে ক্ষমা করবে না

On the current government:


কেন ক্ষমা চাইতে হবে? মুক্তিযুদ্ধ করে বড় বেশি অন্যায় করে ফেলেছি? স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে জনকের পায়ের কাছে সব অস্ত্র জমা দিয়ে ভুল করেছি? বঙ্গবন্ধুর লাশ যখন ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়ির সিঁড়িতে পড়েছিল, তখন জীবন-যৌবন বিসর্জন দিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোনের কথা চিন্তা না করে তাদের বন্দুকের নলের মুখে ফেলে সেই হত্যার প্রতিবাদ করে ১৬ বছর নির্বাসনে থেকে এখনো বেঁচে থেকে কি খুব অপরাধ করেছি? মাফ চাইতে বলছেন। আমার নামে অভিযোগটা কি? জাতির সামনে অভিযোগ আনেন। জাতি বিচার করুক তখন দেখা যাবে কাদের মাফ চাইতে হয়। বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে যারা ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছে, জুতা বানাতে চেয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে যারা ফেরাউন বলেছে, যারা খুনি মোস্তাকের মুখ্য সচিব ছিল তাদের বগলতলে নিয়ে অত বড় বড় কথা শোভা পায় না। আমি অবশ্যই বলেছি বঙ্গবন্ধু কখনো স্বাধীনতার ঘোষক নন। তার স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তার অনেক ঘোষক ছিল। আমরা থাকতে তার কি দরকার ছিল? আজ রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়? সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রায় সব কয়টি কেবিনেট মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেন তার বর্তমান প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। এটাই নিয়ম, এটাই পদ্ধতি। সেদিনও এমন নিয়ম, পদ্ধতি ছিল।